Select Page
Blog
All About Addiction

রিল্যাক্সেন’, ‘ইসিয়াম’ ও ‘আযেপ্যাম’ ধরণের ওষুধগুলো বাংলাদেশে এবং পৃথিবীর অন্যন্য অনেক দেশেই ডাক্তাররা খুব বেশি করে রোগীদের ব্যাবহার করতে দেয়। কিন্তু কেন এই ওষুধগুলো মানুষদের এতো তাড়াতাড়ি নেশাগ্রস্থ করে ফেলে? কি এমন আছে এই ওষুধগুলোর মধ্যে?

বাংলাদেশে বেনজোডিয়াজেপিন আসক্তি

Sharelines

  • ‘ইসিয়াম’ আর ‘রিল্যাক্সেন’এর মতো ‘বেনজো’গুলো আসলে কতটা আসক্তিমূলক?
  • ইসিয়াম’ আর ‘রিল্যাক্সেন’এর মতো ‘বেনজো’গুলো আসলে কতটা আসক্তিমূলক? আমাদের ব্লগে এই বিষয়ে আরও জানতে পারবেন।

বেনজোডিয়াজেপিন আসলে খুব প্রচলিত – কিন্তু বিপদজনক – কিছু ওষুধ। ‘ইসিয়াম’ আর ‘রিল্যাক্সেন’এর মতো ‘বেনজো’গুলো ডাক্তাররা রোগীদের ব্যবহার করতে বলে যখন তারা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তায় বা অনিদ্রায় ভুগে। কিন্তু, এগুলো আসলে খুব শক্তিশালী কিছু ওষুধ যা রোগীর মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে এবং খুব তাড়াতাড়ি আমাদেরকে ওষুধগুলোর উপর নির্ভরশীল করে তোলে। এমনও হয় যে রোগীরা এই ওষুধগুলো ছাড়া থাকতে পারে না, যখন তাদের দুশিন্তা বা ঘুমের সমস্যা মিটে যায়, তারপরও।

যারা এই ‘বেনজো’ নামের ওষুধগুলোর প্রতি আসক্ত হয়ে পরে, তারা একটা অদ্ভুত দোটানায় ভুগতে থাকে। তাদের যে আগের সমস্যাগুলো (যেমন, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা অনিদ্রা) আরও বেশি প্রকট হয়ে পরে যখন তারা ওষুধগুলো খাওয়া ছেড়ে দিতে চায়। এই ব্যাপারটি তাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক যারা আসলেই এই নেশা থেকে বেড়িয়ে আসতে চাচ্ছে।

আসুন, আমরা আগে দেখি ‘বেনজো’ নামের এই ওষুধগুলোর পটভূমি, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নেশার কারন।

বেনজোডিয়াজেপিন’এর পটভূমি

বেনজোডিয়াজেপিন ধরণের ওষুধগুলো প্রথমবার বানানো হয় ১৯৬৩ সালে, বিশেষ কিছু চিকিৎসার জন্য। তার আগ পর্যন্ত, দুশ্চিন্তা ও আনিদ্রা রোগের প্রধান ওষুধ ছিল ‘বারবইটুরেটস’। ‘বারবইটুরেটস’এর সমস্যা হলো যে এই ওষুধগুলো অত্যন্ত আসক্তিমূলক। সমস্যা মিটে গেলেও এই ওষুধগুলো ছেড়ে দেয়া অত্যান্ত কঠিন হয়ে পরে। তাছাড়া, এই ওষুধগুলো বেশি খেয়ে ফেললেও অনেক ধরণের সমস্যা হতে পারে।

এইজন্যই, একটি ‘নিরাপদ’ বিকল্প হিসেবে ‘বেনজোডিয়াজেপিন ওষুধগুলো তৈরি করা হয়। প্রথম এই ধরণের যে ওষুধটি বাজারে আসে সেটি হচ্ছে ‘ডায়াজেপাম’, যা ‘ভ্যালিয়াম’ নামে পরিচিতি পায়। ‘ভ্যালিয়াম’ ডাক্তার ও রোগীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে। ডাক্তাররাও বিশ্বাস করে যে ‘ভ্যালিয়াম’ ‘বারবইটুরেটস’এর চাইতে অনেক কম আসক্তিমূলক; যার ফলে, গণহারে তারা এই ওষুধটি তাদের রোগীদের মধ্যে প্রস্তাব করতে থাকে। বাস্তবিকই, ‘ভ্যালিয়াম’ প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দুশ্চিন্তা ও অনিদ্রা রোগের জন্য ডাক্তারদের ও রোগীদের প্রিয় ওষুধ ছিল। অনেক দিন ধরেই এটি আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওষুধগুলোর মধ্যে একটি।

শুধু ওষুধ খেয়ে আপনার কষ্ট লুকিয়ে রাখছেন?

জানুন আর কি কি চিকিৎসা আছে আপনার সমস্যার জন্য।

‘বেনজো’ ধরণের ওষুধের একটা বড় সমস্যা এই যে, এর ব্যবহারকারীরা ধরেই নিয়েছেন যে এই ওষুধগুলো আসক্তিমুলক নয়। এই কারনেই, কয়েক দশক ধরে ওষুধের সাথে যে সব নির্ভরশীলতার সতর্কবাণী দেয়া থাকতো, ব্যবহারকারীরা সেগুলো সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে এসেছে। তাই, ‘বেনজো’ আসক্তি খুব খারাপভাবে পৃথিবীর বেশ কয়েকটি দেশের অসংখ্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা দিচ্ছিল।

‘ভ্যালিয়াম’ সম্ভবত বাজারের সবচাইতে পরিচিত বেনজোডিয়াজেপিন ওষুধ। কিন্তু এটা ছাড়াও, আরও বেশ কিছু এই ধরণের ওষুধের প্রচলন আছে। বাংলাদেশে, এই ওষুধ ‘রিল্যাক্সেন’ নামে বাজারজাত করা হয়। আরও যেসব নাম আপ্নিয়াপ্নি বাজারে দেখতে পাবেন সেগুলো হলঃ

  • আজেপাম
  • ইজিয়াম
  • ফার্মাপাম, ও
  • সিডাক্সিন

দুশ্চিন্তা-রোধক ওষুধগুলো কিভাবে কাজ করে?

‘বেনজো’ ধরণের ওষুধগুলো আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে নীরস করে ফেলে, যার ফলাফল হয়ঃ

  • টেনশন কমে যাওয়া
  • অনুত্তেজিত হয়ে পরা
  • চলাফেরা কমে যাওয়া
  • চেতনা কমে যাওয়া
  • মাংসপেশী শিথিল হয়ে যাওয়া
  • ঘুম বেশি হওয়া

যেসব রোগীরা দুশ্চিন্তা ও অনিদ্রায় ভুগছে, তাদের জন্য চেতনা ও টেনশন কমে যাওয়া একটি খুবই আকাঙ্ক্ষিত অবস্থা। একই ভাবে, যে মানুষটি অনিদ্রায় ভুগছে, তার কাছে অনুত্তেজিত হয়ে পরা এবং ঘুম বেড়ে যাওয়াও অনেকটাই কাম্য। অন্ততঃ, কিছু দিনের জন্য যখন তারা নিজেদের আসল সমস্যাটির মূল কারন খুঁজে বের করতে পারছে।

অবশ্য, বৈজ্ঞানিকরা এবং চিকিতসা-গবেষকরা মনে করেন যে বেশ কিছু পরিস্থিতিতে বেনজোডিয়াজেপিন অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। যেমন ধরুন, হঠাৎ করে যদি কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে, তার জন্য ‘রিল্যাক্সেন’ খুব ভালো একটি ওষুধ হতে পারে। এইসব ক্ষেত্রে, ‘রিল্যাক্সেন’ উত্তেজিত মানুষটিকে শান্ত করে তুলতে পারবে তার পরবর্তী চিকিৎসার জন্য। তাছাড়া, হাসপাতালের ‘ইন্টেন্সিভ কেয়ার’ ইউনিটে ও মৃতপ্রায় মানুষদের শেষ সময়ে এই ওষুধটি অনুভুতিনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু, সমস্যা হল যখন এই ‘বেনজো’ ওষুধগুলো অনেকদিন ধরে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে, ওষুধগুলোর প্রতি সহ্যক্ষমতা তৈরি হয়ে যায়, আর তারপর সেগুলো বাদ দেয়া প্রায় অসম্ভব – এবং বিপদজনক – হয়ে পরে। এই কারনেই, চিকিৎসা সমাজে যারা এই ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানে, তারা দীর্ঘদিনের জন্য বেনজোডিয়াজেপিন ওষুধ ব্যবহার করতে না করে থাকে। কারন, একবার ব্যবহার করা শুরু করলে এই ওষুধগুলো ছেড়ে দেয়া অসম্ভব কঠিন হয়ে পরে।

‘রিল্যাক্সেন’ ও অন্যন্য সব ‘বেনজো’র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কিভাবে বেনজোডিয়াজেপিন আমাদের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আরাম এনে দেয় ও রোগীকে শান্ত করে তোলে, তা আমরা আগেই আলোচনা করেছি। কিন্তু  এটাও বোঝা দরকার যে এসব ওষুধের অনেক ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, যার মধ্যে বেশিরভাগই খারাপ ধরণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

বেনজোডিয়াজেপিন ধরণের ওষুধগুলো আমাদের মনোযোগ নষ্ট করে, আমাদেরকে দ্বিধাগ্রস্থ করে তোলে এবং আমাদের সাধারণ চিন্তাভাবনার শক্তিকে নষ্ট করে দেয়। বিশেষ করে বয়স্কদের উপর এই ওষুধগুলো খুব খারাপ প্রভাব ফেলে থাকে। তাছাড়া, ‘বেনজো’ আমাদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি করে, যার প্রভাবে গাড়ি চালানো অত্যান্ত বিপদজনক একটি কাজ।

‘আজেপাম’এর মত একটি ওষুধ আমাদের মধ্যে শারীরিক নির্ভরশীলতা তৈরি করে; এই ওষুধটি সহ্য করা বা ব্যবহার ছেড়ে দেয়া দুটোই অত্যান্ত কঠিন ব্যাপার। এটাও বোঝা দরকার যে, শারীরিক নির্ভরতা ও মানসিক নির্ভরতা দুটি ভিন্ন ব্যাপার। এটা সত্যি যে দুটোই শরীর ও মনে পরিবর্তন আনে; কিন্তু শারীরিক নির্ভরতার কারনে আমরা ওষুধগুলো ব্যবহার করা বন্ধ করতে পারি না। আমাদের শরীর ঠিকমত চালানোর জন্যই ওষুধগুলো আমাদের ব্যবহার চালিয়ে যেতে হয়।

বেনজোডিয়াজেপিন’এর উপর নির্ভর হয়ে গেলে এই ওষুধগুলোর ব্যবহার করা ছেড়ে দেয়া অনেক কঠিন হয়ে পরে। বেশ কিছু লক্ষণ তখন আমাদের মধ্যে দেখা দিতে পারে, যেমনঃ

  • টেনশন,
  • হঠাৎ আতংকিত হয়ে পরা,
  • কাঁপুনি,
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া,
  • কোন কাজে মনোযোগ দিতে না পারা,
  • হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া,
  • মাথাব্যাথা,
  • অযথা বিরক্ত হওয়া,
  • খিঁচুনি, এবং অন্যন্য।

এই বেনজোডিয়াজেপিন ওষুধগুলোর আরেকটি খারাপ দিক হচ্ছে, ওষুধ খাওয়া ছেড়ে দেবার পর একজন মানুষের যেই লক্ষণগুলো আমাদের চোখে পরে, সেগুলো তার আসল সমস্যার – যার কারনে ওষুধগুলো খাওয়া শুরু করতে হয়েছিলো – লক্ষণগুলোর খুব কাছাকাছি। তাই বেনজোডিয়াজেপিন ওষুধগুলো খাওয়া ছেড়ে দেবার পর আবার আগের সমস্যায় ফিরে যাওয়ায় সম্ভাবনা খুব বেশি।

বিশেষজ্ঞদের সাহায্যের জন্য আজই যোগাযোগ করুন

কিভাবে খুব তাড়াতাড়ি ‘বেনজো’ আসক্তি গড়ে ওঠে?

সবাই ‘বেনজোডিয়াজেপিন’ ধরণের ওষুধগুলোর আসক্তিমূলক গুনাগুণ জানার অনেক দশক আগে থেকেই মানুষ নিয়মিত এই ওষুধগুলো ব্যবহার করে আসছে। অবশ্য আজকাল দুই বা চার সপ্তাহের বেশি কোন ডাক্তার বা মনোবিজ্ঞানী ‘বেনজো’ ধরনের ওষুধগুলো আর ব্যবহার করার পরামর্শ দেয় না। অন্যভাবে বলতে গেলে, এই ওষুধগুলো শুধুমাত্র অল্প কিছুদিনের ব্যবহারের জন্য।

কিন্তু এখন পর্যন্ত, ‘বেনজো’ ওষুধগুলো বাজারে খুব সহজেই পাওয়া যায়, হয়তো কারন সবার কাছে ওষুধগুলো এখনো অনেক প্রিয়। অনেক রোগীই একের পর এক ডাক্তার বদলাতে থাকে, এই আশায় যে কোন একজন ডাক্তার ‘রিল্যাক্সেন’ ব্যবহার করতে বলবে, অথবা পরিমানের চাইতে বেশি ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিবে। অথবা, কয়েকজন ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মিলিয়ে তারা অনেক বেশি পরিমানের ওষুধ কিনতে পারবে। অন্যরা সরাসরি ওষুধের দোকান থেকে ‘রিল্যাক্সেন’ কিনে নিতে পারে।

সত্যি কথা এই যে, এখন পর্যন্ত অনেক ডাক্তারই জানেন না যে ‘বেনজোডিয়াজেপিন’ ধরণের ওষুধগুলোর মধ্যে আসক্তিমূলক গুনাগুণ রয়েছে, এবং এই ওষুধগুলো রোগীর উপর অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই জন্যই, সব ধরণের সমস্যা নিয়ে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিৎ যার বেনজোডিয়াজেপিন আসক্তি সম্পর্কে বিশেষ ধারনা আছে।

‘দ্যা কেবিন, ঢাকাঃ বেনজোডিয়াজেপিন আসক্তির জন্য নিরাপদ ও কার্যকরী চিকিৎসা

‘বেনজোডিয়াজেপিন’ ধরণের ওষুধগুলোর ব্যবহার ছেড়ে দেয়া কঠিন, কিন্তু ‘দ্যা কেবিন, ঢাকা’র অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা আপনার সাহায্য করতে পারবে। হতে পারে কোন ডাক্তার আপনাকে এই ওষুধগুলো ব্যবহার করতে বলেছে অথবা আপনি নিজেই দোকান থেকে ওষুধগুলো কিনেছেন। যেটা জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল যে, ওষুধগুলো বেশিদিন ব্যবহার করা যাবে না। আমাদের কাছে আপনার সমস্যা নিয়ে আসলে আমরা চেষ্টা করবো আপনার জন্য একটি উপযোগী ও কার্যকরী চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে, যা আপনার পরিস্থিতির সাথে মানানসই হবে।

আমাদের সবগুলো চিকিৎসা’র পরিকল্পনা আমরা সম্পূর্ণভাবে অন্যদের কাছ থেকে গোপন রাখি, এবং সেগুলো আপনার সংস্কৃতির সাথে অবশ্যই মানানসই। আমরা জানি আসক্তির জন্ম আপনার মস্তিষ্কে, তাই আমাদের সব চিকিৎসাও সেইভাবেই পরিকল্পনা করা। আমাদের সাহায্য নিয়ে আপনি অবশ্যই ‘বেনজোডিয়াজেপিন’ ওষুধগুলো ব্যবহার করা বন্ধ করতে পারবেন, এবং পারবেন একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে।

সাহায্য পেতে আমাদের সাথে আজই যোগাযোগ করুন

 

Like what you read? For similar content Sign up here

  • এই ক্ষেত্রটি বৈধতা উদ্দেশ্যে এবং অপরিবর্তিত রেখে করা উচিত.