Select Page
Blog
All About Addiction

বাংলাদেশের তরুন জনসংখ্যার একটি বড় অংশ আফিম ও ভাং-এর নেশা ছেড়ে এখন ইয়াবা ব্যবহার করছে। ইয়াবা’র ক্ষতিকর নেশায় মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ছেলে-মেয়েরা নিজেদের বড় ধরণের ক্ষতি করে ফেলছে। আসুন আমরা জানতে চেষ্টা করি কিভাবে ইয়াবা’র ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজে অবক্ষয় নেমে আসছে।

বাংলাদেশে ইয়াবা’র আসক্তির উঠতি প্রবণতা

Sharelines

  • ইয়াবা’র এই উঠতি প্রবণতা বাংলাদেশের সমাজের জন্য একটি চিন্তার বিষয়, বিশেষ করে যখন দেখা যাচ্ছে যে আসক্তদের মধ্যে প্রায় সবাই তরুন সমাজের অংশ
  • কিভাবে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ, গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও উচ্চবিত্তদের মধ্যে #ইয়াবা এখন একটি হাল-ফ্যাশনের মত ব্যাপার হয়ে উঠছেঃ

বেশ কয়েক বছর আগে, বাংলাদেশে প্রায় হঠাৎ করেই যেন ইয়াবা’র একটি জোয়ার বয়ে যায়, আর পেছনে জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে এই নেশাদ্রব্যের প্রতি আসক্ত করে রেখে যায়। এর আগে, ইয়াবা ও এর মত অন্য সব মেথামফেটামিন ধরণের নেশদ্রব্যগুলো বাংলাদেশের গরিব ও নিম্নআয়ের মানুষদের মধ্যে বেশি দেখা যেত। হঠাৎ করেই দেশের নেশায় আসক্ত সমাজের মধ্যে একটা বড় পরিবর্তন চলে আসলো। দেখা গেল যে, সমাজের তরুণ শ্রেণী, যারা মূলত মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে এসেছে, তারা হঠাৎ ইয়াবা নিয়ে আগ্রহ দেখাতে লাগলো। আর তাই, অনেকটা আকস্মিকভাবেই বাংলাদেশে ইয়াবা সেবনকারীদের সংখ্যা বেড়ে গেল।

কিভাবে ইয়াবা এসে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হেরোইন ও গাঁজার বদলে নিজের জায়গা করে নিল

এই শতাব্দীর শুরু থেকেই, হেরোইন আর গাঁজা বাংলাদেশের মানুষদের পছন্দের নেশাদ্রব্য ছিল। কিন্তু তার পর থেকেই হঠাৎ এই দেশে আসক্তদের মধ্যে একটা বড় পরিবর্তন দেখা দিল, বিশেষ করে তাদের পছন্দের ক্ষেত্রে। দিদারুল আলম রাশেদ নামের এক ব্যাক্তির গল্পের-ছলে লেখা একটি রিপোর্টে এই ব্যাপারটি প্রথম উঠে আসে। রাশেদ সাহেব মায়ানমার সিমান্তে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করেন। তিনি তার এলাকায় ইয়াবা ব্যবহারের হঠাৎ উত্থান নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক জরিপ করেন।

সিএনএন-এর এক সাক্ষাৎকারে দিদারুল আলম রাশেদ জানান, ২০০২ সালে তার নিজের এলাকায় করা একটি জরিপে দেখা গিয়েছে যে, আনুমানিক ২০,০০০ মানুষ বিভিন্ন নেশাদ্রব্যের প্রতি আসক্ত। কিন্তু তার এই জরিপের কোথাও ইয়াবা’র কোন নাম ছিল না। ২০১৬ সালে তার দল একই এলাকায় আরেকবার একই জরিপটি পরিচালনা করে। এবার, তারা দেখতে পায়, সেই একই এলাকায় আগের তুলনায় ৪গুন বেশি মানুষ নেশায় আসক্ত। তার চাইতে ভয়ের ব্যাপার হল, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজন ইয়াবা’র নেশায় আসক্ত

এই জরিপ থেকে বোঝা গেল যে, হঠাৎ ইয়াবা’র প্রভাব বেড়ে যাওয়ার মূল কারন এর সরবরাহ বেড়ে যাওয়া। বাংলাদেশে যে সব নেশাদ্রব্যের প্রচলন রয়েছে, তার বড় একটা অংশ মায়ানমার থেকে সরবরাহ করা হয়। হেরোইন আর গাঁজা অনেক আকর্ষণীয় নেশাদ্রব্য হলেও, এই দুই পন্যের বেশ কিছু নেতিবাচক দিক আছে। এই দু’টি নেশাদ্রব্য গাছের অংশ থেকে তৈরি করতে হয়। অর্থাৎ, হেরোইন ও গাঁজা চাষ ও সংগ্রহ করতে হয়, যার জন্য খুব লম্বা সময় ও পরিশ্রম দরকার পরে। তাছাড়া, এই দু’টি নেশাদ্রব্য এদিক-সেদিক আনা নেয়া করাও একটি ঝামেলার কাজ।

অন্যদিকে, যারা নেশাদ্রব্য পাচার করার সাথে সংযুক্ত, তাদের কাছে ইয়াবা একটি পছন্দের নাম। এর একটি প্রধান কারন হচ্ছে যে, ইয়াবা একটি সম্পূর্ণভাবে কৃত্তিম ও রাসায়নিক পণ্য। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইয়াবার সমস্ত কাজ একটি গবেষণাগারে করা হয়ে থাকে। এই নেশাদ্রব্যগুলো ছোট ছোট ওষুধের আকারে হয়, যা বহন করা ও লুকিয়ে ফেলা অনেক সহজ একটি ব্যাপার। কাজেই, পাচারকারীদের কাছে ইয়াবা অত্যান্ত প্রিয় একটি নেশাদ্রব্য হয়ে উঠলো। একই সাথে, বাংলাদেশেও ইয়াবা সবচাইতে সহজলব্য ও পছন্দের একটি নেশা হয়ে গেল। বাংলাদেশে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া সেবনকারীর সংখ্যা দেখে যা মনে হয়, পাচারকারীদের জন্য এই দেশে ইয়াবা’র একটি ভালো আকারের ক্রেতা পেয়ে যেতে বেশিদিন লাগেনি। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে অনেক সংখ্যক মানুষ ইয়াবা সেবন করা শুরু করে দেয়, এবং এই নেশার ব্যবসা ভালোভাবে এই দেশে চালু হয়ে যায়।

বাংলাদেশের একজন ইয়াবা ব্যবহারকারী সাধারণত দেখতে কেমন হয়?

বাংলাদেশে ইয়াবা সেবনকারীদের সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া নিঃসন্দেহে একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা। কিন্তু তার চাইতেও বেশি ভয়ের কথা এই যে, ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় সবাই তরুণ প্রজন্মের এবং অল্পবয়স্ক। বাংলাদেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রতিবছর এই ব্যাপারে জরিপ করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। তাদের প্রকাশিত এই রিপোর্টে নতুন ব্যবহারকারীদের সংখ্যাটি সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যায়। সর্বশেষ ২৯১৪ সালে যে রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখা গিয়েছে যে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য সেবনকারীদের মধ্যে ৮০% এর বয়স ৪০-এর নিচে। আরেকটি প্রায় একই রকম রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, এ দেশের মাদকদ্রব্যের আসক্ত মানুষদের মধ্যে অর্ধেক জনসংখ্যার বয়স ২০-এর নিচে

এই সংখ্যাগুলো শুধু ইয়াবা ব্যবহারকারীদের নয়, বরং সব ধরণের নেশাদ্রব্য ব্যাবহারকারীদের। কিন্তু এ কথা সত্যি যে, বাংলাদেশের নেশাগ্রহনকারীদের মধ্যে ইয়াবা এখন সবচাইতে জনপ্রিয় নেশাদ্রব্য। বিশেষ করে, উচ্চ ও মধ্যেবিত্ত পরিবারের কিশোর ও তরুণদের মধ্যে ইয়াবা নিজের একটা বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে, যা থেকে কেউ মুক্তি পাচ্ছে না।

এর একটা বড় কারন এই হতে পারে যে, ইয়াবা’কে অনেকেই আসলে উচ্চবিত্তের নেশাদ্রব্য বলে মনে করে। প্রথম যখন ইয়াবা বাংলাদেশের বাজারে আসে, এর প্রধান খদ্দেররা ছিলো আমাদের সমাজের অভিজাত শ্রেণীর মানুষেরা ও মিডিয়ার গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা। তাছাড়া, একটা গুজব প্রচলিত ছিল যে ইয়াবা ব্যবহার করলে ওজন কমানো যায়। যার ফলে, অনেক নামকরা অভিনেতা ও মডেলদের মধ্যেও ইয়াবা’র ব্যবহার দেখা গিয়েছিলো। এই সব কারনের ফলে, সাধারণ মানুষ মনে করতো যে ইয়াবা আসলে ধনী, বিখ্যাত ও গণ্যমান্যদের নেশা।

ইয়াবা’র দামও আসলে অনেক ছিলো। “ঢাকা ট্রিবিউন” নামের একটি অনলাইন সংবাদপত্র থেকে জানা যায় যে, প্রতিটি ইয়াবা’র পিলের দাম পরে ৩০০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকার মত। বাংলাদেশের নিম্নবিত্তদের মাসিক আয় মাত্র ৫,৩০০ টাকার মত। তাদের পক্ষে এই নেশাদ্রব্য ব্যবহার করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে তাই ইয়াবা’র বিস্তারের পেছনে এ দেশের প্রতিপত্তিশীল সমাজের একটা বড় হাত আছে। এই সব পরিবার থেকে আসা মানুষরাই শুধুমাত্র ইয়াবা কিনতে পারে, এবং এই নেশাদ্রব্যটি নিয়ে নিজের ইচ্ছেমত ব্যবহার করে দেখতে পারে। কিন্তু একবার যখন ইয়াবা’র নেশায় তারা আসক্ত হয়ে পরে, তখন তাদের সাথে সমাজের অন্য কোন আসক্ত ব্যাক্তির কোন তফাত থাকে না। ইয়াবা’র নেশা ধরে রাখা সমাজের অন্য সব মানুষদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠে, কিন্তু ধনী ও অভিজাত শ্রেণীর মানুষদের জন্য এটা সম্ভব। কিন্তু, ইয়াবা’র ব্যবহার যে শুধু অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলে, তা নয়। দীর্ঘদিন ইয়াবা সেবনের প্রভাব আমাদের শরীর ও মনের উপরেও পরে। তাছাড়া, আমাদের আশেপাশের সম্পর্কগুলোও আস্তে আস্তে নষ্ট হয়ে যায়।

ইয়াবা’র আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে তরুণ সমাজের দরকার সহযোগিতা

ধীরে ধীরে বাংলাদেশে ইয়াবা’র প্রভাব বেড়েই চলছে, আর এর সাথে বাড়ছে এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা, যেমন – ক্ষতিগ্রস্ত যকৃত বা লিভার, কিডনি’র সমস্যা, চামড়া’র ক্ষত বা অসুখ, কম বয়সে হার্ট অ্যাটাক, ইত্যাদি – খুব অল্প বয়সে তাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়াবে। এই প্রজন্মের মধ্যে যারা যারা ইয়াবা ব্যবহার করেছে, তারা সবাই শেষ জীবনে বেশি বেশি অসুস্থ হয়ে পরবে।

এতো গেল শারীরিক সমস্যার কথা। ইয়াবা ব্যবহারের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও পরে। শুধু তাই না, অল্প কিছু দিন ইয়াবা ব্যবহার করলেও অনিদ্রা রোগ, হ্যালুসিনেশন ও বিভিন্ন ধরণের মানসিক রোগ হতে পারে, এবং মনে আত্মহত্যা করার চিন্তাও আসতে পারে। আমরা এখনও মানসিকভাবে ইয়াবা ব্যবহারের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবগুলো জানি না, কিন্তু নিশ্চিত সেগুলোও খুব খারাপ কিছুই হবে যা আমাদের মনের সব শান্তি নষ্ট করে দেবে।

যদি আপনার আশেপাশে এমন কেউ থেকে থাকে যারা ইয়াবা ব্যাবহার করা শুরু করেছে, বা ইয়াবা’র প্রতি আসক্ত হয়ে পরেছে, তাদের জন্য সাহায্য এখন হাতের কাছেই আছে। ইয়াবা ব্যবহারকারীদের জন্য “দ্যা কেবিন, ঢাকা”তে আছে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা। আমাদের সব বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতারা অত্যান্ত অভিজ্ঞ ও সহানুভূতিশীল। তারা জানে যে কেউ ইচ্ছে করে নেশায় জড়িয়ে পরে না, বা ইচ্ছে করে কষ্ট পায় না। তারা অবশ্যই আপনার সমস্যা বুঝবে এবং চেষ্টা করবে আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে।

ঢাকা’য় আমরা বাসস্থান-সহ আপনার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারবে। অথবা, প্রয়োজন পরলে থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই শহরে আমাদের আরেকটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিতে পারবে। প্রয়োজনে বিনামূল্য পরামর্শের জন্য আমাদের সাথে আজই যোগাযোগ করুন

 

Like what you read? For similar content Sign up here

  • এই ক্ষেত্রটি বৈধতা উদ্দেশ্যে এবং অপরিবর্তিত রেখে করা উচিত.