Select Page
Blog
All About Addiction

ইদানিং যদি আপনার মনে আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা এসে থাকে, মনে রাখবেন – আপনার এই বর্তমান মানসিক অবস্থা কোন চিরস্থায়ী ব্যাপার নয়। আরও জানতে পরুন কেন এইসব আত্মহত্যার চিন্তাগুলো আমাদের মাথায় আসে, এবং এ থেকে আমরা কিভাবে নিজেদের স্বাভাবিক, সুস্থ অবস্থায় ফিরে যেতে পারি।

নিজেদের আত্মঘাতী চিন্তাগুলোকে অতিক্রম করা

Sharelines

  • মনে হচ্ছে আপনার কাছে আর কোন উপায় নেই?
  • জানুন কেন আমাদের মাথায় আত্মঘাতী চিন্তাগুলো আসে, এবং কিভাবে আমরা তাদের সামলাতে পারি।

আপনি কি ইদানিং প্রায়ই আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা করে থাকেন? যদি উত্তরটা হয় হ্যা, তবে জেনে রাখুন, এ পথে আপনি একা নন। আত্মঘাতি চিন্তার একটি মূল বিষয়, যা আপনার মনে রাখা উচিৎ, হচ্ছে যে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই নিজেদের জীবনের কোন না কোন একটি সময়ে একই ভাবে চিন্তা করে। আত্মহত্যা করার কথা চিন্তা করছেন এর মানে এই নয় যে, আপনার জীবনে কোন মৌলিক ভুল আছে। এর মানে এও নয় যে আপনি একজন দুর্বল, পাগল বা ক্রুটিপূর্ণ মানুষ। আসলে, আত্মহত্যার কথা চিন্তা করার অর্থ হচ্ছে এই যে আপনি অনেক বেশি পরিমানের কষ্ট, ব্যাথা বা মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন যা আপনার পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন হয়ে পরছে।

যে কষ্ট আপনি পাচ্ছেন, তা হয়তো আপনার কাছে চিরস্থায়ী বলে মনে হচ্ছে। আপনার মনে হতে পারে যে আপনি এই কষ্ট থেকে কোনদিনই মুক্তি পাবেন না। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। সময় এবং মানসিক সুস্থ্যতা’র যথাযথ সমর্থন পেলে, আপনিও দেখবেন যে এই সমস্যাগুলো থেকে বেড়িয়ে আসার অনেক উৎপাদনশীল ও কার্যকরী উপায় রয়েছে। আপনার এত সব আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা অবশ্যই একদিন আর থাকবে না।

ঢাকা’য় আত্মহত্যা প্রতিরোধ

যদি আপনি বা আপনার প্রিয় কেউ আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে থাকেন, অথবা মনে মনে অনেক হতাশা, একাকীত্ব ও কষ্টে জর্জরিত হয়ে থাকেন, আপনার প্রথম কাজটি হবে সাহায্যের জন্য হাত এগিয়ে দেয়া। আমাদের মানসিক সহায়তা হেল্পলাইন ‘কান পেতে রইএ রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের দল যারা সবসময় তৈরি আপনাদের কথা শুনতে এবং আপনাকে সাহায্য করতে। তাদের সাথে  যোগাযোগ করার নম্বরগুলো নিচে দেয়া আছে।

  • গ্রামীণফোনঃ +৮৮০ ১৭৭৯৫৫৪৩৯১, +৮৮০ ১৭৭৯৫৫৪৩৯২
  • এয়ারটেলঃ +৮৮০ ১৬৮৮৭০৯৯৬৫, +৮৮০ ১৬৮৮৭০৯৯৬৬
  • বাংলালিঙ্কঃ +৮৮০ ১৯৮৫২৭৫২৮৬
  • রবিঃ +৮৮০ ১৮৫২০৩৫৬৩৪

যদি পরিস্থিতি গুরুতর অথবা হিংসাত্মক হয়, যত দ্রুত সম্ভব আপনার নিকটস্ত পুলিশ ষ্টেশনে যোগাযোগ করুন।

আত্মহত্যা’র কথা চিন্তা করা কি স্বাভাবিক?

আপনি যদি ইদানিং আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে থাকেন, জেনে রাখুন যে আপনার আশেপাশেই অনেক মানুষ আছে যাদের মানসিক অবস্থা এই মুহূর্তে আপনার মতই। তারপরও, সবসময় আত্মহত্যা করার কথা চিন্তা করা স্বাভাবিক কোন বিষয় নয়। আসলে, আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা মানসিক অসুস্থ্যতার লক্ষণ। তাছাড়া, আত্মহত্যার চিন্তার সাথে পড়ন্ত স্বাস্থ্য, গুরুতর ভাবে নিজেকে কষ্ট দেয়া ও মৃত্য’র সম্পর্ক আছে

এমনও হতে পারে আপনি নিজের ভেতরের আত্মহত্যার চিন্তাগুলোকে ‘স্বাভাবিক’ মনে করে কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাতে যা হবে, আপনি আর নিজের জন্য সাহায্যের সন্ধান করবেন না, যা আপনার জন্য অত্যান্ত জরুরী। অপরদিকে, আত্মহত্যার চিন্তাগুলোকে যদি আপনি গুরুত্ব সহকারে নেন, তাহলে আপনি নিজেই বুঝে যাবেন আপনার নিজের মানসিক স্বাস্থ্য এখন কেমন আছে, এবং কত দ্রুত আপনার পেশাদার চিকিৎসকদের সাহায্য দরকার।

কেন আমি আত্মহত্যা’র কথা চিন্তা করছি?

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই, আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসে একদম ভেতর থেকে আসা গুরুতর কষ্ট ও দুঃখ থেকে। সবারই নিজেদের অভিজ্ঞতা অন্যদের থেকে আলাদা ও একদম নিজস্ব। সবারই নিজেদের কিছু কারন থাকে আত্মহত্যার কথা চিন্তা করার পেছনে। কিন্তু তারপরও, ৪টি প্রচলিত কারনে বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের জীবন শেষ করে দেবার কথা চিন্তা করে।

১। গুরুতর বিষণ্ণতা

বিষণ্ণতা এখন পর্যন্ত আত্মহত্যার সবচাইতে প্রচলিত কারণগুলোর মধ্যে একটি। যখন একজন মানুষ  নিজের মধ্যে বিষণ্ণ বোধ করে, তার সমস্ত চিন্তাভাবনা বিকৃত হয়ে যায়। তাদের প্রতিদিনের সাধারণ চিন্তাধারাগুলো আর কোন মতেই বিশ্বাসযোগ্য থাকে না। কিন্তু খুশির খবর এই যে, বিষণ্ণতা’র চিকিৎসা করা এখন সম্ভব, এবং ‘দ্যা কেবিন ঢাকা’তে আমাদের বিশেষজ্ঞ দল আপনাকে সাহায্য করতে পারবে।

<h3> ২। হঠকারিতা/আবেগপ্রবনতা <h3>

মাঝে মাঝেই আবেগ থেকে আত্মহত্যার চিন্তা মাথায় আসতে পারে। তার মানে এই যে, যেসব মানুষ নিজেদের জীবনে আবেগপ্রবণতা বেশি দেখায়, তারাই আত্মহত্যা’র ঝুঁকিতে থাকে। যারা মাদকাসক্তিতে আসক্ত থাকে বা প্রায়ই নেশাদ্রব্য ব্যবহার করে, তারাই মদ্যপ অবস্থায় বা নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে মাত্রাতিক্ত আবেগপ্রবন হয়ে পরে এবং আত্মহত্যার কথা চিন্তা করে।

৩। অন্যান্য মানসিক সমস্যা

বিষণ্ণতাই একমাত্র মানসিক সমস্যা নয় যার কারনে মানুষ আত্মহত্যার কথা চিন্তা করতে পারে। সিজোফ্রেনিয়া’র মত বেশ কিছু মানসিক রোগের কারনেও একজন অসুস্থ ব্যাক্তির মনে আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা আসতে পারে। একই ভাবে, বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারবাইপোলার ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত মানুষও আত্মহত্যার ঝুঁকির মধ্যে থাকে

৪। সাহায্যের জন্য আর্তনাদ

মাঝে মাঝে এমনও হয়, একজন মানুষ নিজের দুঃখ ও কষ্টে জর্জরিত হয়ে নিজের ভেতরে বিহ্বল হয়ে আঁটকে পরে। এই সমস্যা থেকে সুস্থ্য হয়ে ওঠার পরের জীবন কেমন হতে পারে সেটা চিন্তাই করতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে আত্মহত্যা পালিয়ে যাওয়ার কোন পন্থা নয়, বরং সাহায্যের জন্য আকুতি। যদি আপনার সাহায্য প্রয়োজন হয়, অনুগ্রহ করে মনে রাখুন যে সাহায্য আপনার আশেপাশেই আছে। মানসিক দুরবস্থা থেকে সাহায্য পেতে আপনাকে খুব বেশিদুর যেতে হবে না বা খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না।

উপরের তালিকাটি কোন ভাবেই একটি সম্পূর্ণ তালিকা নয়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই, একজন মানুষ যখন আত্মহত্যার কথা চিন্তা করতে থাকে, তার কারন তারা আসলেই মনে করে তাদের কাছে আর কোন উপায় নেই। কিন্তু এটা অবশ্যই সত্যি নয়। আত্মহত্যার চিন্তার জন্য চিকিৎসার খোঁজ করা ছাড়াও, এইসব নেতিবাচক আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা সামলানোর জন্য অনেক উপায়ও আছে।

কিভাবে এসব নেতিবাচক ও হতাশাজনক চিন্তাভাবনা সামলাবেন

সবচেয়ে দরকারি এই কথাটা মনে রাখা, যে আত্মঘাতী চিন্তাভাবনা আসলে উঠে আসে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যাক্তিগত কষ্ট থেকে। কিন্তু চিরস্থায়ী মনে হলেও, এসব কষ্ট আসলে খন্ডকালীন একটি ব্যাপার। সময়ের সাথে সাথে এসব চিন্তাভাবনা আস্তে আস্তে চলে যাবে, এগুলো যতই গুরুতর মনে হোক না কেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, আপনি বুঝে ওঠার আগেই চিন্তাগুলো আবার হারিয়ে যাবে।

দ্যা কেবিন ঢাকা’তে, আমরা চেষ্টা করি আপনার মানসিক সমস্যাগুলো খুঁজে বের করতে, এবং আপনার সাথে কাজ করে সেগুলোর জন্য একটি আরোগ্য পরিকল্পনা করতে। আমাদের এও চেষ্টা যেন আপনি আবার আগের মত স্বাভাবিক ভাবে চিন্তাভাবনা করতে পারেন। কিন্তু আমরা এও বুঝি, প্রতিবার কোন নেতিবাচক চিন্তা মাথায় এলেই আপনার পক্ষে সম্ভব নয় একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতার সাথে আলাপ করা। তাই, আমাদের পরবর্তী চেষ্টা থাকে, নিজের অনুভূতিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনাকে বেশ কিছু কৌশলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। যেমন, এখানে কিছু উদাহারন দেয়া আছেঃ

  • কোন বিশ্বস্ত বন্ধু বা আপনজনের সাথে সামনা-সামনি সময় কাতান, তখনও যখন আপনার একা থাকতে ইচ্ছা করছে।
  • শারীরিক ভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, এতে আপনার মন ও মেজাজ দুই’ই ভালো থাকবে। ১০ মিনিট পার্কে হাটতে পারেন, অথবা ৩০ মিনিট ব্যায়াম করতে পারেন। মানসিক রোগ থেকে আরোগ্যের পথে শারীরিক পরিশ্রম অত্যান্ত কার্যকরী একটি অস্ত্র।
  • নিজের জীবনের ছোট ছোট আনন্দগুলো খুঁজে বের করুন। বড় কিছু নয়, বরং ছোট ছোট সুখগুলোর মধ্যেই রয়েছে ভালো থাকার উপায়।
  • খোলা আকাশের নিচে প্রতিদিন সময় কাটান। সূর্যের আলো এবং পরিষ্কার বাতাসে আছে প্রাকৃতিকভাবে আমাদের মেজাজ ভালো রাখার উপায়
  • নিজের জীবনের একটি রুটিন তৈরি করুন, এবং সেটি প্রতিদিন অনুশীলন করুন। দেখবেন, দৈনন্দিনের কাজ করতে করতে নিজের নেতিবাচক ও আবেগাচ্ছন্ন চিন্তাগুলো আর মাথায় আসছে না।
  • নিজেকে মদ ও নেশাদ্রব্য থেকে দূরে রাখুন। এই ধরণের পদার্থগুলো আপনার স্বাভাবিক চিন্তাভাবনাকে আচ্ছন্ন করে রাখে এবং খুব সহজেই আপনাকে হতাশাছন্ন করে রাখতে পারে।

‘দ্যা কেবিন, ঢাকা’তে বিষণ্ণতা ও অন্যান্য মানসিক রোগের চিকিৎসা

যদি আপনি প্রায় আত্মহত্যা করার কথা চিন্তা করে থাকেন, অথবা খুব সম্প্রতি আত্মঘাতী হওয়ার কথা ভেবে থাকেন, তাহলে আপনার প্রয়োজন এখনই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া। এমনকি, আপনার যদি আত্মহত্যা করার ইচ্ছে একবার এসে চলে গিয়েও থাকে, আবার সেগুলোর ফিরে আসার সম্ভাবনা অনেক বেশি যদি না আপনি তাড়াতাড়ি অভিজ্ঞদের সাহায্যে একটি আরোগ্য’র পথ পরিকল্পনা করে থাকেন।

দ্যা কেবিন, ঢাকা’তে আমাদের বিশেষজ্ঞদের দল আস্তে আস্তে আপনাকে মানসিক সুস্থ্যতার পথে ফিরিয়ে আনতে পারবে। আমরা চাই আপনি এটি বুঝুন, যে আপনার বর্তমান পরিস্থিতি চিরস্থায়ী নয়। আমরা চাই যে আপনি জানুন, আপনি এখানে একা নন। আমাদের কাছে এগিয়ে আসুন সাহায্যের জন্য। আজই ফোন করুন এই নম্বরেঃ +৮৮০ ১৭৭১ ৫২৮ ০৮৬।

দ্যা কেবিন, ঢাকা’তে আমরা বেশ কিছু মানসিক রোগের চিকিৎসা প্রদান করে থাকি, যেগুলো আপনাদের প্রয়োজন হতে পারে। আমাদের অভিজ্ঞ পরামর্শদাতারা সবসময় তৈরি আপনাকে সাহায্য করতে। আমাদের সাহায্য নিন, আপনিও পারবেন মানসিকভাবে সুস্থ্য পথে চলতে এবং নিজের জীবনকে আবার পূর্বের মত সুন্দর করে সাজিয়ে নিতে।

Like what you read? For similar content Sign up here

  • এই ক্ষেত্রটি বৈধতা উদ্দেশ্যে এবং অপরিবর্তিত রেখে করা উচিত.