Select Page
Blog
All About Addiction

সম্প্রতি, একটি নতুন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, জুয়া’র আসক্তি আমাদের মস্তিষ্কে বেশ গুরুতর প্রভাব ফেলে। কেন আপনি চেষ্টা করেও জুয়া’র নেশা ছাড়তেই পারছেন না, তার পেছনে একটা শারীরবৃত্তিও কারন রয়েছে, তখনও যখন আপনি নিজে এবং অন্যরা দেখতে পাচ্ছে যে আপনি বারবার কেবল হেরেই যাচ্ছেন।

জুয়া’র নেশায় আসক্ত আমাদের মস্তিষ্ক

Sharelines

  • স্লট মেশিনের সামনে দাঁড়ালে একজন পুরনো জুয়াড়ি অনেকটাই মোহগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।
  • একটি নতুন গবেষণায় আমরা দেখতে পাই কেন একজন আসক্ত জুয়াড়ি চেষ্টা সত্ত্বেও নিজেকে সরিয়ে আনতে পারে না, তখনও যখন সে কেবলই হেরেই যাচ্ছে।

গবেষকরা নিয়মিত চেষ্টা করে যাচ্ছে এই জানতে, যে ঠিক কিভাবে জুয়া’র আসক্তি আমাদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এই ব্যাপারে গত কয়েক বছরে আমাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অনেকটাই বেড়েছে। ২০১৩ সালে প্রকাশিত ডায়াগনোস্টিক স্ট্যাটিস্টিক ম্যানুয়াল (ডিএসএম-৫), যা কিনা বিশেষজ্ঞদের ব্যবহৃত একটি জরুরী বই যেখানে বেশ কিছু মানসিক, আবেগ সংক্রান্ত ও আচরণগত সমস্যার কথা লেখা আছে, জুয়া’র আসক্তিকে একটি বিশেষ মানসিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এটিই প্রথমবার যে কোন প্রক্রিয়াগত আসক্তিকে (যেখানে কোন নেশাদ্রব্যের হস্তক্ষেপ নেই এমন আসক্তি) ডিএসএম-৫’এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই জরুরী বইটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানে এই যে, আমাদের বৃহত্তর বৈজ্ঞানিক সমাজ অবশেষে তাই মেনে নিলো যা আসক্তি বিশেষজ্ঞরা অনেক আগে থেকেই জানেনঃ যে, জুয়া’র আসক্তি একটি অত্যান্ত বাস্তব ও  ক্ষতিকর মানসিক সমস্যা। জুয়া’র আসক্তির পক্ষে অবশ্যই সম্ভব একজন মানুষের মস্তিষ্ককে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেয়া, ঠিক যেমনটি করতে পারে অন্য যে কোন নেশাদ্রব্যের আসক্তি।

এই জ্ঞান আমাদের কাছে এসেছে কিছুটা হলেও মস্তিষ্কের পরিক্ষাগুলো করতে পারার মাধ্যমে। ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেসোনেন্স ইমেজিং (এফএমআরআই) পরীক্ষাগুলোর সাহায্যে আমরা এখন দেখতে পারি কিভাবে আমাদের মস্তিষ্ক বিভিন্ন উদ্দীপকের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। এই পরীক্ষাগুলোর সাহায্যেই বৈজ্ঞানিকরা মানুষের মস্তিষ্কের ওপর বেশ কিছু নেশাদ্রব্য, নেশাজাতীয় বস্তু বা প্রক্রিয়ার প্রভাব লক্ষ্য করতে পারছে।

এরকমই একটি গবেষণায় ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেসোনেন্স ইমেজিং (এফএমআরআই) ব্যবহার করে পুরনো জুয়াড়িদের মস্তিষ্কের উপর জুয়া’র প্রভাব লক্ষ্য করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে এই উপলক্ষে আসা হয়েছে যে, যার ওপর গবেষণা করা হয়েছে, সেই মানুষটি  আসলে উচ্চ-ঝুকিপূর্ণ পরিস্থিতিগুলো আগে থেকে আঁচ করতে পারছে না। তাদের আসক্তি’র সাথে গবেষণার এই মূল্যায়ন ভালোভাবে মিলে যায়। যেসব পরিস্থিতিতে একজন স্বাভাবিক মানুষ হাল ছেড়ে অনেক আগেই চলে যেত, একজন পুরনো জুয়াড়ি, বা জুয়া’য় আসক্ত ব্যাক্তি, বিদায় নিয়ে চলে যেতে পারবে না। বরং বার বার হেরে যাওয়ার ও ক্ষতিগ্রস্ত হবার পরও তারা নিজেদের সহজাত অভ্যাস অনুযায়ী ভুল সিদ্ধান্ত নিতেই থাকবে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জুয়া’য় আসক্তদের মস্তিষ্কে পার্থক্য আছে

জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটিতে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, জুয়া’য় আসক্ত ব্যাক্তিদের মস্তিষ্কে বেশ বড় রকমের কিছু পার্থক্য আছে। বৈজ্ঞানিকরা তাদের গবেষণা শেষে এই মতামতে পৌঁছেছেন যে, যেসব মানুষ জুয়া’য় আসক্ত তারা খুব তাড়াতাড়ি নিজেদের ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে পারে না। এই সমস্যাটিকে বৈজ্ঞানিকরা নাম দিয়েছেন ‘কগনিটিভ ফ্লেক্সিবিলিটি’, বা ‘জ্ঞানীয় নমনীয়তা’। এই উপসংহারে পৌঁছতে তারা বেশ কিছু জুয়াড়িদের মস্তিষ্কের উপর গবেষণা করেছেন, বিশেষ করে তারা যখন জুয়া খেলায় ব্যস্ত তখন।

এই গবেষণাতে যেসব জুয়াড়িরা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের প্রত্যককে এমন কিছু কাজ দেয়া হয়েছিলো যার সাহায্যে তারা ‘ক্রেডিট’ বা ‘আমানত’ আয় করতে পারবে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যাদের জুয়ার নেশা ছিল না, তারা খুব সহজেই বুঝে গিয়েছিলো যে ভাগ্য তাদের প্রতিকূলে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা হার মেনে পিছু হটে যায়। কিন্তু একই দলে যেসব অংশগ্রহণকারীরা জুয়া’র নেশায় আসক্ত ছিল, তারা একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল অবলম্বন করতে থাকে। হার নিশ্চিত জেনেও তারা খেলা থেকে সরে আসতে পারছিলো না।

এইসব অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে এই বিষয়ে আরও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণার প্রধান রচয়িতা জনাব হিদেহিকো টাকাহাশি এই ব্যাপারে তার মতামত প্রকাশ করেছেন এইভাবেঃ

“আমরা অংশগ্রহণকারীদের ‘ডরসোল্যাটারেল প্রিফ্রন্টাল করটেক্স’এ হ্রাসকৃত কার্যক্ষমতা দেখতে পেয়েছি। মস্তিষ্কের এই অংশ সাধারণত ‘কগনিটিভ ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা ‘জ্ঞানীয় নমনীয়তা’র কাজে নিয়োজিত থাকে। এই ফলাফল থেকে আমরা এই বুঝতে পারি যে অংশগ্রহণকারীরা একটি পরিস্থিতির ঝুঁকি বুঝে নিজেদের ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।”

এই গবেষণাটিই প্রথম নয় যা এই উপসংহারে পৌঁছেছে। ২০১৪ সালে একটি গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে যে জুয়া’য় আসক্ত ব্যাক্তিদের মস্তিষ্কের ‘পুরষ্কার কেন্দ্র’টি একজন সাধারণ মানুষের চাইতে আলাদা ভাবে কাজ করে। বিশেষ করে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তাই দেখা গিয়েছিলো। একই বছরে, ২০১৪ সালে, আরেকটি গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে যে, স্লট মেশিনে জুয়া খেলার সময়ে একজন জুয়া’য় আসক্ত ব্যাক্তি এক ধরণের ঘোরের মধ্যে চলে যায়, যা একজন সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা যায় না।

নেশাগ্রস্থ জুয়াড়িদের জন্য এই গবেষণার অর্থ কি?

এইসব গবেষণার ফলাফল থেকে আমরা এই বুঝতে পারি যে, আমাদের মস্তিষ্কের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কারনেই একজন মানুষ জুয়া’র নেশায় আক্রান্ত হয়। যারা এই ধরণের আসক্তিমূলক ব্যবহারে অভ্যস্ত, তাদের জন্য বেশি- ও কম-ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির ভেতর পার্থক্য করা সম্ভব হয়ে উঠে না। তাদের মস্তিষ্কগুলো সাধারণত ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়, যার কারনে তারা জুয়া’র আসরে বেশ কিছু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বিচক্ষণতার প্রমান দিতে পারে না।

যখন একজন মানুষের মস্তিষ্ক পুরোপুরি অক্ষত থাকে, তারা বুঝতে পারে কখন নিজেদের হার অনিবার্য। এমন সব পরিস্থিতি থেকে তারা নিজেদেরকে দ্রুত সরিয়ে নিতে পারে। তাছাড়া, তারা নিজেদের হার অবশ্যম্ভাবী বুঝতে পেরে জুয়া খেলা বন্ধ রাখতে পারে। কিন্তু যখন একজন মানুষের মধ্যে জুয়া’র আসক্তি ভালোভাবে ধরা পরে, তারা নিজেদের ভালো বুঝতে পারে না। জিততে পারবে না জেনেও তারা একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে থাকে, এমন সময়ও যখন তাদের খেলা থেকে সরে আসা উচিৎ।

এভাবেই জুয়া’র নেশা একজন আসক্ত ব্যাক্তির পুরো জীবনেকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। আস্তে আস্তে তারা নিজেদের জীবনের সবটুকু দিয়ে দেয় জুয়া’র এই নেশাকে, বিশেষ করে এমন সব পরিস্থিতিতে যেখানে তারা নিজেরাও জানে তারা হেরে যাবে। এই ধরণের ব্যবহারের কারনে একজন আসক্ত ব্যাক্তির পারিবারিক ও সামাজিক সব সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়, তাদের জীবনে অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে, ও তাদের জীবন পুরোপুরি ধংস হয়ে যায়। ার এই সব কিছুর মূলে রয়েছে তাদের মস্তিষ্কের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

জুয়া’র আসক্তিঃ ঢাকা’য় একটি গম্ভীর সমস্যা

অনেকদিন ধরেই জুয়া’র আসক্তি ঢাকা শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে, হাই কোর্ট আইন করে ঢাকা শহরের ১৩টি অতি-পরিচিত ক্লাবে অবৈধ জুয়া খেলা বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু যদিও জুয়া আইনসম্মত নয়, এটি বন্ধ করা খুব সহজ কাজ নয়। একই কারনে, যারা এই নেশায় আসক্ত, তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে যায় জুয়া খেলা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে।

কিন্তু মাঝে মাঝে ব্যাপারটা শুধুমাত্র আইনের, বা অর্থনৈতিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ২০১৭ সালেস মার্চ মাসে, হবিগঞ্জে এক ২৪ বছর বয়সী ছেলে খুন হয় জুয়া’র আসরে কিছু প্রতিযোগীদের হাতে। খবরে জানা গিয়েছে যে, তাকে হত্যা করা হয় শাহ্‌ আব্দুল লতিফের বাৎসরিক ওরস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত মেলার একটি জুয়া খেলা’র হারজিৎকে কেন্দ্র করে। হয়তো এই দুর্ভাগা ছেলেটি জুয়া’য় আসক্ত ছিল না, কিন্তু এই ঘটনা থেকে আমরা এই প্রমান পাই যে, অনেক সময়ে জুয়া’র আসরে শুধুমাত্র টাকাপয়সা ছাড়াও আরও অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। এর মধ্যে কিছু কিছু এমন ক্ষতি রয়েছে যা অপূরণীয়, যেমন একটি জীবন।

জুয়া’র আসক্তিকে যে মানসিক স্বাস্থ্যের মূলধারার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে এটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো খবর। ইদানিং, এই বিষয়ে বেশ কিছু নতুন নতুন গবেষণা চালানো হচ্ছে, বিশেষ করে এই জানার জন্য যে ঠিক কিভাবে এই মস্তিষ্ক-ভিত্তিক অসুখটি আমাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আশা করা যাচ্ছে যে, দীর্ঘদিন গবেষণার পর আমরা জুয়া’র আসক্তির ব্যাপারে ভালো কিছু তথ্য পাবো যার সাহায্যে এই সমস্যার চিকিৎসা আরও উন্নত ও সহজ হবে।

কিন্তু মূলধারার সাথে সংযুক্ত হওয়ার মানে এই না যে, আমাদের বাস্তবিক জীবন থেকে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে। জুয়া’র আসক্তি শতাব্দীর পর শতাব্দী থেকে মানুষের জীবন ধংশ করে আসছে; হয়তো হাজার বছর ধরেই! শুধুমাত্র তারাই এই সমস্যায় কষ্ট পাচ্ছে না যারা জুয়া’র নেশায় আক্রান্ত। বরং তাদের পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয় ও কাছের মানুষও এই আসক্তি’র কারনে অসহায় হয়ে পরে, এমনকি মাঝে মাঝে আশেপাশের নিরপরাধ কোন মানুষও।

‘দ্যা কেবিন, ঢাকা’তে আপনার আসক্তির চিকিৎসা সম্ভব

‘দ্যা কেবিন, ঢাকা’র আসক্তি বিশেষজ্ঞদের রয়েছে অনেক বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের রোগীদের যে কোন ধরণের নেশা থেকে ফিরিয়ে আনতে, যার মধ্যে জুয়া’র নেশা অন্যতম। আমরা এটা জানি যে জুয়া’য় আসক্ত একজন ব্যাক্তির মস্তিষ্ক বেশ ভালোভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এবং তাদের অনেক সমস্যা হয় একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে।

ঠিক এই কারনেই আপনাকে হার মানলে চলবে না! আমাদের সাহায্য নিয়ে আপনি নিজের মস্তিস্ককে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারবেন এবং নতুনভাবে নিজের জীবন শুরু করতে পারবেন।

আমাদের বাইরের রোগীদের জন্য বেশ কিছু নমনীয় প্রোগ্রাম আছে যেগুলো বিশেষ করে ব্যস্ত পেশাদার মানুষদের জন্য যারা চিকিৎসার জন্য নিজেদের অন্য সব কাজ বাদ দিতে পারবে না। আমাদের সব বিশেষজ্ঞরা অত্যান্ত সংবেদনশীল ও সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল; তারা জানে যে আপনি নিজের জীবনে পরিবর্তন আনতে চান। শুধুমাত্র আপনার জন্য তারা একটি উপযোগী প্রোগ্রাম তৈরি করে দিবে, যেটি শুধু আপনার জন্যই। এই প্রোগ্রামটি আপনাকে সাহায্য করবে আরোগ্যের পথে এগিয়ে যেতে। আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন বিস্তারিত জানতে।

Like what you read? For similar content Sign up here

  • এই ক্ষেত্রটি বৈধতা উদ্দেশ্যে এবং অপরিবর্তিত রেখে করা উচিত.