Select Page
Blog
All About Addiction

কর্মক্ষেত্রে সবার কাছ থেকে নিজের মানসিক যন্ত্রণা লুকিয়ে রাখছেন? কিন্তু এটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ হতে পারে। জানুন কিভাবে নিজেকে সামলিয়ে আপনার কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারবেন ও নিজের জীবনে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা

Sharelines

  • যখন আপনি শারীরিকভাবে নিজের কাজের জায়গা থেকে বেড়িয়ে যাচ্ছেন, মানসিকভাবে কেন সেখানে আটকা পরে থাকবেন?
  • কর্মক্ষেত্রে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ৩টি কৌশল আজই জেনে নিনঃ

এমন নিশ্চয়ই অনেকবার হয়েছে যে ভেতরে ভেতরে আপনি মানসিকভাবে অসুস্থ বোধ করলেও বাইরে নিজেকে ‘স্বাভাবিক’ দেখাতে হয়েছে, বিশেষ করে যখন আপনি নিজের অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে আছেন। কিন্তু একথা মনে করার কোন কারন নেই যে আপনি একাই এমন অনুভব করছেন। সত্যি কথা এই যে, আমাদের আশেপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা নিজেদের বিষণ্ণতা, অহেতুক দুশ্চিন্তা, হঠাৎ ভয় পেয়ে যাওয়া, ও অন্যন্য মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক চিন্তায় আছে। পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ কোন না কোন মানসিক সমস্যায় ভুগছে এবং নিজেদের কর্মস্থলে সেটি লুকিয়ে রাখছে, যা শুধুমাত্র ক্ষতিকর নয়, বরং অনেক ক্লান্তিদায়ক একটি বিষয়ও।

মানসিক অসুখের লজ্জা আসলে এই সাধারণ ব্যাপারটিকে আরও বেশি জটিল করে তোলে

খোলামেলাভাবে মানসিক অসুখের কথা নিয়ে আলোচনা করা মাত্র কিছুদিন হল শুরু হয়েছে। তাদের মা, প্রিন্সেস ডায়ানা, নিহত হবার প্রায় ২০ বছর পরে প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্স হ্যারি এই দুর্ঘটনা সম্পর্কে প্রথম মুখ খুলে। ১৯৯৭ সালে ডায়ানা মারা যাবার পর তারা দুই ভাই যে পরিমান মানসিক কষ্ট ও সমস্যার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তা নিয়ে তারা এত বছর পর প্রথম কথা বলেছেন। শুধু প্রিন্স উইলিয়াম এবং প্রিন্স হ্যারি নয়, হলিউডের তারকা ডেমি লোভেটোবেন এফ্লেক মাত্র কয়েকদিন আগে নিজেদের মানসিক অসুখ ও আসক্তি নিয়ে সবার সামনে কথা বলেছেন। তারা চেয়েছেন যেন তাদের মত অন্যরা যারা একই সমস্যায় ভুগছে, তাদের এই গল্প শুনে তারা যেন নতুন করে সাহস পায়। কিন্তু এই বিষয় নিয়ে কথা বলার আরও অনেক আগে থেকে মানসিক সমস্যা আমাদের সমাজে আছে। পৃথিবীতে অগণিত মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছে, কিন্তু কিছুদিন আগ পর্যন্ত কেউ এই বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইতো না।

বেশিরভাগ মানুষ নিজের পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের কাছ থেকে নিজেদের মানসিক সমস্যার কথা লুকিয়ে রাখে কারন তারা অন্যের সামনে নিজেকে “দুর্বল” কিংবা “অস্বাভাবিক” হিসেবে তুলে ধরতে চায় না। অথচ এই মানুষগুলোই আমাদের সবচাইতে আপন এবং এরাই আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে। মানসিক সমস্যা নিয়ে লজ্জা পাওয়া ও এগুলো গোপন করা খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার, বিশেষ করে বাংলাদেশে। কিন্তু শুধুমাত্র মানসিক সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেই আমরা এই অসুখগুলো অনেকটা সারিয়ে ফেলতে পারবো। আমাদের আশেপাশের সাধারণ মানুষ যখন মানসিক অসুখ সম্পর্কে জানবে ও বুঝবে, তখনই আমরা পারবো নিজেদের সমস্যা নিয়ে আলাপ করতে। এখনই সময় এটা মনে রাখার যে, নিজের কোন ধরণের মানসিক সমস্যা নিয়ে আলাপ করা বা এসব সমস্যার জন্য চিকিৎসা খুজতে যাওয়ার মধ্যে কোন লজ্জার কিছু নেই। উল্টো, এর মধ্যেই আপনার নিজের ভালো।

জেনে নিন কিভাবে কর্মক্ষেত্রে নিজের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ করবেন

আপনি কিভাবে নিজের মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখবেন ও কিভাবে সেগুলোকে সবার সামনে উপস্থাপন করবেন তা সম্পূর্ণ আপনার নিজের ব্যাপার, এবং আপনার পারিপার্শ্বিকতার উপর নির্ভর করে। কিন্তু আমরা আপনাকে কিছু উপায় জানাতে পারি যাদের সাহায্যে আপনি খুব সুন্দর করে নিজেকে কর্মক্ষেত্রে সামলিয়ে রাখতে পারবেন, ও আপনার আশেপাশের সহকর্মীদের কাছ থেকে সাহায্য ও সমর্থন পেতে পারবেন, কারন কাজ করার জায়গায় এটি অত্যান্ত জরুরী একটি ব্যাপার।

১। আপনার ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতর কর্মকর্তার সাথে মানসিক সমস্যার চিকিৎসা সম্পর্কে কথা বলুন

নিজের যেকোন মানসিক সমস্যার সমাধানে থেরাপি, বা মানসিক চিকিৎসার, প্রয়োজন অমূল্য। এটা খুবই জরুরী যে আপনি একজন পেশাদার মানসিক সমস্যার চিকিৎসক বা পরামর্শদাতাকে খুঁজে বের করবেন। অনেক সময়ে, কর্মক্ষেত্র থেকেই মানসিক রোগের চিকিৎসার খরচও পাওয়া যায়, নির্ভর করে আপনি কোথায় কাজ করছেন তার ওপর। এই বিষয়ে আপনি আপনার ম্যানেজারের সাথে অথবা এইচআর (মানব সম্পদ) বিভাগের সাথে কথা বলে জেনে নিতে পারেন আপনার চাকরির সুবিধাগুলোর মধ্যে মানসিক রোগের চিকিৎসার খরচ দেয়া আছে কিনা। আপনি না চাইলে তাদেরকে সবকিছু খুলে বলার প্রয়োজন নেই, কিন্তু চিকিৎসার খরচ সম্পর্কে কথা বললে আপনার নিজেরই অনেক সুবিধা হবে।

এমন যদি হয় যে, আপনার মানসিক সমস্যার কারনে আপনি ঠিকমত কাজ করতে পারছেন না, তাহলে হয়তো আপনার ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতর কর্মকর্তার সাথে আরও গভীরভাবে আলোচনা করা উচিৎ। কিন্তু এই আলোচনা শুরু করার আগে আপনি অবশ্যই নিজে ভালোভাবে চিন্তা করে নিবেন, এসব আলোচনা করতে আপনি নিরাপদ বোধ করছেন কি না। তখনই আপনি তাদেরকে নিজের সমস্যার কথা জানাবেন যখন ব্যাপারটা নিয়ে আপনি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত।

২। আপনার সহকর্মীদের বিশ্বাস করে তাদের সাথে আলোচনা করুন

সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করেন এমন কারো সাথে নিজের সমস্যা নিয়ে কথা বললে আপনার নিজের কাছেই অনেক হালকা লাগবে। আপনি যদি কোন সহকর্মীর সাথে অন্তরঙ্গ হন, বা আপনার সহকর্মীদের মধ্যে কেউ যদি আপনার বন্ধু হয়, তবে নিজের সমস্যা সম্পর্কে তাদেরকে জানিয়ে রাখুন। আপনার সমস্যা সম্পর্কে তাদেরকে জানান, আরও জানান কোন কোন উপসর্গ আপনার মধ্যে দেখা দিতে পারে। এও জানিয়ে রাখুন আপনার মানসিক সমস্যার জন্য আপনার কাজের উপর কি ধরণের প্রভাব পরতে পারে, এবং কিভাবে প্রয়জনের সময় তারা আপনাকে সাহায্য করতে পারে। তাদেরকে প্রয়োজনের সময় কাছে পেতে আপনারা নিজেরা মিলে কোন “বিশেষ শব্দ” বা “বিশেষ অঙ্গভঙ্গির” ব্যবস্থা আগে থেকে করে রাখতে পারেন, যেন দরকারের সময় তারা বুঝতে পারে আপনার সাহায্য প্রয়োজন।

৩। দিনের শেষে কাজের কথা সম্পূর্ণভাবে ভুলে যান

আমরা অনেকেই কর্মক্ষেত্র থেকে বাসায় ফেরার পরও কাজের কথা চিন্তা করতে থাকি, যা খুব খারাপ একটি অভ্যাস। আমাদের উচিৎ যে মুহূর্তে কাজ থেকে শারীরিকভাবে বেড়িয়ে যাবো, ঠিক সেই মুহূর্তে মানসিকভাবে অবসর নিয়ে নেয়া। অফিস থেকে বের হবার সময় আপনার কাজ সম্পর্কে সব চিন্তা দরজার কাছে রেখে যান, এবং চেষ্টা করুন একটি ভালো ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে নিজের ব্যস্তহীন সময়টুকু কাটাতে। অবশ্য, এর মানে এই না যে আপনি কাজের শেষে বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে সঙ্গে সঙ্গে মদের আসরে চলে যাবেন, কারন এটি একটি খারাপ অভ্যাসে পরিণত হয়ে যেতে পারে। অবসর কাটাতে গিয়ে আপনি হঠাৎ করেই নিজেকে একটি সহ-ঘটক আসক্তির মধ্যে আবিষ্কার করতে পারেন। তাতে করে, কাজের চাপ সামলাতে গিয়ে আপনি আরও খারাপ একটি আসক্তির মধ্যে জড়িয়ে পরবেন।

সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে আপনি দৌড়াতে পারেন, যোগব্যায়াম করতে পারেন, নাচের ক্লাসে যোগ দিতে পারেন, বা নিজের জন্য নতুন একটি শখ খুঁজে নিতে পারেন। এমন অনেক কিছুই করতে পারেন যা করলে আপনার ভালো লাগবে, যা করলে আপনি প্রতিদিন বিনোদন পাবেন, এবং নিজেকে ভালোবাসতে শিখবেন। কাজ এবং কাজের পরের ব্যাক্তিগত জীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য খুঁজে বের করতে পারলে আপনি শারীরিক ও মানসিক দু’ভাবেই সুস্থ থাকতে পারবেন।

নিজের জন্য বিনোদন খুঁজে নিতে পারছেন না? দেখে নিন অবসরে ভালো থাকার জন্য বেশ কিছু নিরুদ্বেগ প্রতিক্রিয়া

স্বাধীনভাবে কাজ করছেন, তারপরও মানসিক অবসাদে ভুগছেন? জেনে নিন কি করবেন।

নিজে নিজে, স্বাধীনভাবে কাজ করার মজা কম নয়। এতে অনেক সুবিধা আছে যা চাকরির মধ্যে নেই, যেমন নমনীয়তা, ক্ষমতায়ন, গতিশীলতা ও স্বাচ্ছন্দ্য। কিন্তু সুবিধার সাথে সাথে বেশ কিছু অসুবিধাও লক্ষ্য করা যায়, যার কারনে আমাদের দুশ্চিন্তার পরিমান অনেকখানি বেড়ে যায়। বাস্তবিকই, একজন ফ্রিল্যান্স কর্মীর উদ্বেগের পরিমান অনেক বেশি থাকে, যা তাদের মানসিক সমস্যাগুলোকে আরও বেশি বাড়িয়ে তোলে।

এই সমস্যা থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখতে জানতে হবে। আপনার জন্য প্রয়োজন এটা জানা যে কিভাবে পদ্ধতি অনুসারে নিজের কাজ এবং ব্যাক্তিগত জীবনকে একে অপরের থেকে আলাদা করে রাখতে হয়। নিজের বাসস্থান থেকে দূরে কাজের জায়গা তৈরি করুন, এবং নিজের জীবনের এই দুই’টি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সমান সমান, কিন্তু আলাদাভাবে, সময় দিন। যদি নিজের ওপর খুব বেশি কাজের দায়িত্ব জমে যায়, চেষ্টা করুন কিছু কাজ অন্যকে দিয়ে দিতে। আমরা জানি, এই কাজটি করতে বলা সহজ, কিন্তু করা কঠিন। কিন্তু এটা মনে রাখবেন, যদি আপনি নিজের দায়িত্ব অন্যকে দিয়ে কিছু অবসর সময় হাতে পান্‌, সেটা আপনার স্বাস্থ্যের জন্যই ভালো হবে।

ঢাকাতেই এখন মানসিক সমস্যার চিকিৎসা পেতে পারেন, আপনার খুব কাছেই

আপনার মানসিক সমস্যা যাই হোক না কেন – বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, অতিরিক্ত মেজাজ, ব্যাক্তিত্ব সমস্যা বা অসদাচরণের সমস্যা, “দ্যা কেবিন, ঢাকা”র অভিজ্ঞ চিকিৎসকের দল সবসময়ই আপনার সাহায্যে প্রস্তুত। আমারা মুখোমুখি আপনার সাথে একান্তভাবে কথা বলবো, এবং সর্বচ্চ চেষ্টা করবো আপনার সমস্যাগুলোকে খুঁজে বের করতে। এবং চেষ্টা করবো এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করতে যা আপনার সমস্যার জন্য সঠিক হবে।

আপনি যদি কোন রকমের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন, এবং নিজের কর্মক্ষেত্রে সেটি নিয়ে অসুবিধায় থাকেন, আমরা চেষ্টা করবো ভালো কিছু সমাধান নিয়ে আপনার পাশে থাকতে। আমাদের সম্পূর্ণ চেষ্টা থাকবে আপনাকে একটি ভালো ও সুস্থ জীবন উপহার দিতে। কিভাবে, তা জানতে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

Like what you read? For similar content Sign up here

  • এই ক্ষেত্রটি বৈধতা উদ্দেশ্যে এবং অপরিবর্তিত রেখে করা উচিত.